06/25/2026 | Press release | Distributed by Public on 06/25/2026 03:22
নির্যাতন প্রতিরোধ, মানবিক মর্যাদা রক্ষা এবং আইনের শাসন জোরদার করতে তরুণদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সহায়তায় জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক দিবস (২৬ জুন) উপলক্ষে আয়োজিত এক সংলাপে বক্তারা এবিষয়ে কথা বলেন।
বাংলাদেশে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি), নির্যাতন প্রতিরোধ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা - অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য প্রিভেনশন অব টর্চার (এপিটি) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে গত ২২ জুন সমাজবিজ্ঞান অনুষদের গণতন্ত্র চর্চা কেন্দ্রে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
সেখানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, মানবাধিকারকর্মী এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। তরুণরা কীভাবে নির্যাতন প্রতিরোধ, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় কাজ করতে পারে সে বিষয়ে মতবিনিময় হয়। মুক্ত আলোচনায় উঠে আসে স্বাধীন মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা, রাষ্ট্রীয় বন্দীশালাগুলোকে যথাযথ পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা এবং নির্যাতন প্রতিরোধে অন্যান্য দেশের সফলতার উদাহরণ। আলোচনায় শিক্ষার্থীদের শুধু শিক্ষার্থী হিসেবে নয়, বরং সচেতনতা বৃদ্ধি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এবং জবাবদিহিতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার সক্রিয় অংশীদার হিসেবে নিজেদের ভূমিকা সম্পর্কে চিন্তাশীল হতে উৎসাহিত করা হয়।
অনুষ্ঠানটির উদ্বোধনী আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের প্রধান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ একরামুল হক। তিনি মানবাধিকার তদারকি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাহ্যিক এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, "স্বাধীন তদারকি প্রতিষ্ঠানগুলোতে যদি নির্বাহী বিভাগের প্রভাব পড়ে তবে তারা কার্যকরভাবে মানুষের অধিকারের সুরক্ষা দিতে পারে না। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাংবিধানিক সুরক্ষা আরও শক্তিশালী করা হলে দেশে জবাবদিহিতা ও মানবাধিকার সুরক্ষা জোরদার হবে।"
বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেঙ্গলি জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী কনভেনশনের ঐচ্ছিক প্রোটোকল (ওপক্যাট)-এ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, "ওপক্যাটে বাংলাদেশের যোগদান মানবাধিকার সুরক্ষা ও মানবিক মর্যাদা রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকারের প্রতিফলন। স্বাধীন প্রতিষ্ঠান ও মানবাধিকার সুরক্ষা জোরদারে সুইজারল্যান্ড ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।"
ইউএনডিপি বাংলাদেশের আইনের শাসন, বিচার ও মানবাধিকার বিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা রোমানা শোয়েগার বলেন, "ভুক্তভোগী মানুষের কষ্ট আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে নির্যাতন কোন পরিস্থিতিতেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। মানবিক মর্যাদা রক্ষায় সকল প্রকার নির্যাতন প্রতিরোধে আমাদের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব রয়েছে।"
অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য প্রিভেনশন অব টর্চারের (এপিটি) কার্যক্রম পরিচালক মেরি লেক্যাঁ বলেন, "ওপক্যাটে বাংলাদেশের যোগদান একটি বিশেষ অগ্রগতি, তবে কার্যকর জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই এই অঙ্গীকার বাস্তব সুরক্ষায় রূপ নেবে। কোনো দেশ একা এই কাজ করতে পারে না। তাই একে অপরের অভিজ্ঞতা থেকে শেখার জন্য আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।"
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য উপস্থাপন করেন এশিয়া প্যাসিফিক ফোরাম অব ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস ইনস্টিটিউশনসের জ্যেষ্ঠ মানবাধিকার উপদেষ্টা গ্রেগ হিজম, আসিয়ান পার্লামেন্টারিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটসের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ইউইউন ওয়াহইউনিংরাম, এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের প্রধান অধ্যাপক ড. মঈনুল ইসলাম।
তারা জাতীয় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা, নির্যাতন প্রতিরোধের জটিলতা এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। পাশাপাশি গবেষণা, জনসংলাপ, নাগরিকদের অংশগ্রহণ এবং দায়িত্বশীল প্রচারণার মাধ্যমে তরুণরা কীভাবে মানবাধিকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়েও মতবিনিময় হয়।
প্রতি বছর ২৬ জুন পালিত হয় নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সহায়তায় আন্তর্জাতিক দিবস। এই দিনে জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী কনভেনশন চালু হয়েছিল। দিবসটি বিশ্ববাসীকে মনে করিয়ে দেয় যেকোন নির্যাতন মানবিক মর্যাদার পরিপন্থী এবং সব পরিস্থিতিতেই তা প্রতিরোধ করতে হবে।
তরুণদের জ্ঞান, বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সংলাপের মাধ্যমে দক্ষ করে তুলতে ইউএনডিপি ও এর অংশীদাররা কাজ করে যাচ্ছে। এতে মানবাধিকার, ন্যায়বিচার এবং আইনের শাসনের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব গড়ে উঠবে।