02/08/2026 | Press release | Distributed by Public on 02/08/2026 11:25
বণিক বার্তা
প্রকাশ: রোববার ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ছবি: বণিক বার্তা
ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (ইবিএল) আবাসন খাতে গ্রাহকদের ভিন্ন ভিন্ন প্রয়োজন বিবেচনায় একাধিক হোম লোন প্রডাক্ট পরিচালনা করছে।
হোম লোন দেয়ার ক্ষেত্রে আপনাদের প্রডাক্টগুলো কী? বর্তমানে গ্রাহকরা কত শতাংশ সুদে ঋণ পাচ্ছেন?
ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (ইবিএল) আবাসন খাতে গ্রাহকদের ভিন্ন ভিন্ন প্রয়োজন বিবেচনায় একাধিক হোম লোন প্রডাক্ট পরিচালনা করছে। ফ্ল্যাট বা প্রস্তুত বাড়ি কেনার জন্য রয়েছে 'ইবিএল হোম লোন', নতুন করে বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে দেয়া হয় 'ইবিএল হোম ক্রেডিট'। পাশাপাশি শরিয়াহভিত্তিক অর্থায়ন পছন্দ করেন এমন গ্রাহকদের জন্য রয়েছে 'ইবিএল হোম ফাইন্যান্স'। বর্তমানে গ্রাহকরা ১১ থেকে সাড়ে ১১ শতাংশ পর্যন্ত সুদহারে ইবিএলের হোম লোন সুবিধা গ্রহণ করতে পারছেন। এ হার বাজারের প্রচলিত হারের সঙ্গে যথেষ্ট প্রতিযোগিতামূলক।
ফ্ল্যাট ক্রয় বা বাড়ি নির্মাণে ঋণের আবেদন করলে গ্রাহক কত দিনের মধ্যে ঋণ পান?
আবেদন থেকে অনুমোদন ও অর্থ ছাড় পর্যন্ত সময়সীমা তুলনামূলকভাবে সংক্ষিপ্ত রাখা হয়। গ্রাহক যদি প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র যথাযথভাবে জমা দেন এবং ইবিএলের নির্ধারিত ঋণ মূল্যায়ন মানদণ্ড পূরণ করেন, তাহলে সাধারণত ১৫ কার্যদিবসের মধ্যেই হোম লোন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।
এ ঋণের মেয়াদ কতদিনের হয়? সুদের হার কি নির্ধারিত নাকি ভাসমান?
হোম লোন সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি ঋণ। ইবিএলের ক্ষেত্রে ঋণের মেয়াদ গ্রাহকের বয়স, আয়ের ধরন ও সামগ্রিক আর্থিক প্রোফাইল বিবেচনায় নির্ধারণ করা হয়। সর্বোচ্চ ২৫ বছর পর্যন্ত মেয়াদে হোম লোন প্রদান করা হয়ে থাকে। এ ঋণের সুদহার পরিবর্তনশীল বা ভাসমান প্রকৃতির। বাজার পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং নীতিগত পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সময়ের সঙ্গে সুদের হার সমন্বয় হতে পারে।
সুদের হার বাজারদরের সঙ্গে ওঠানামা করায় গ্রাহকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন-এমন অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে কী বলবেন?
পরিবর্তনশীল সুদহার ব্যবস্থায় সুদ যেমন বাড়তে পারে, তেমনি বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে কমতেও পারে। এটি একটি স্বচ্ছ ব্যবস্থা, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা ও অর্থবাজারের বাস্তব অবস্থার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়। দীর্ঘমেয়াদে এ কাঠামো গ্রাহক ও ব্যাংক-উভয়ের জন্যই তুলনামূলকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান তৈরি করে বলে মনে করি আমি।
ফ্ল্যাট কেনায় আপনারা সর্বোচ্চ কত টাকা পর্যন্ত ঋণ দিচ্ছেন? এক্ষেত্রে কোন শ্রেণীর গ্রাহককে অগ্রাধিকার দেয়া হয়?
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত হোম লোন প্রদান করে ইবিএল। এ ঋণের জন্য বেতনভুক্ত চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, বাড়িওয়ালা যাদের ভাড়া থেকে নিয়মিত আয় রয়েছে এবং চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ আবেদন করতে পারেন। ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে গ্রাহকের পেশার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয় তার আয়, ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা এবং সামগ্রিক আর্থিক শৃঙ্খলাকে।
পর্যাপ্ত জামানত থাকায় হোম লোনকে তুলনামূলক নিরাপদ বিনিয়োগ বলা হয়। তার পরও অনেক ব্যাংক কেন এ ঋণ দিতে আগ্রহী নয়?
হোম লোন একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হওয়ায় ব্যাংকের বড় অংকের অর্থ দীর্ঘ সময়ের জন্য এতে আটকে থাকে। পাশাপাশি সম্পত্তির বাজারমূল্য পরিবর্তনের ঝুঁকি, আইনি যাচাই, দলিলপত্র পরীক্ষা এবং প্রয়োজনে ঋণ পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ ও জটিল। এসব কারণে অনেক ব্যাংক তারল্য ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার দিক বিবেচনা করে হোম লোনে তুলনামূলকভাবে সতর্ক অবস্থান নেয়।
ইবিএলের হোম লোনে খেলাপির হার কেমন? কোন শ্রেণীর গ্রাহক বেশি খেলাপি হচ্ছেন?
ইবিএলের হোম লোন পোর্টফোলিও অত্যন্ত সুপর্যবেক্ষিত। শক্তিশালী গ্রাহক বাছাই ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার কারণে বর্তমানে এ খাতে খেলাপি ঋণের হার ১ দশমিক ৮ শতাংশ, যা তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত।
খেলাপির ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট পেশাভিত্তিক শ্রেণীকে আলাদা করে দায়ী করা যায় না। সাধারণত ব্যক্তিগত আর্থিক সংকট বা আয় হঠাৎ ব্যাহত হওয়াই খেলাপির প্রধান কারণ হিসেবে হয়ে থাকে।
হোম লোন সম্প্রসারণে কোনো নীতিগত প্রতিবন্ধকতা আছে কি?
নীতিগতভাবে হোম লোন খাতকে উৎসাহিত করা হলেও ব্যাংকগুলোকে মূলধন পর্যাপ্ততা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন নির্দেশনা মেনে চলতে হয়। এছাড়া সম্পত্তির রেজিস্ট্রেশন, মালিকানা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া জটিল ও সময়সাপেক্ষ হওয়ায় হোম লোন সম্প্রসারণের গতি অনেক ক্ষেত্রে ধীর হয়ে যায়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্প্রতি হোম লোনের সর্বোচ্চ সীমা ২-৪ কোটি টাকায় উন্নীত করেছে। এ সিদ্ধান্তের প্রভাব কী হতে পারে?
এ সিদ্ধান্তের ফলে মধ্য ও উচ্চ-মধ্যম আয়ের গ্রাহকরা তুলনামূলক বড় আকারের আবাসন প্রকল্পে অর্থায়নের সুযোগ পাবেন। এর মাধ্যমে আবাসন খাত, নির্মাণ শিল্প এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাতে ইতিবাচক গতি সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে হয় আমার।
হোম লোনের বাজার সম্প্রসারণে আবাসন কোম্পানিগুলো কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে?
হোম লোনের বাজার আরো সহজ ও গতিশীল করতে আবাসন কোম্পানিগুলোর কিছু বিষয়ে বাড়তি গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে জমির মালিকানা-সংক্রান্ত কাগজপত্র ও অনুমোদনপত্র স্বচ্ছ থাকে না। এ বিষয়ে আবাসন কোম্পানিগুলোর যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়ার আছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প সম্পন্ন করা এবং ক্রেতাদের জন্য ব্যাংক-সমর্থিত ডকুমেন্টেশন প্রস্তুত রাখার ক্ষেত্রেও তাদের ভূমিকা প্রয়োজন। এছাড়া বাস্তবসম্মত মূল্য নির্ধারণ এবং ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বিত বিপণন কার্যক্রম পরিচালনা করা গেলে গ্রাহকের আস্থা বাড়বে। এতে হোম লোন গ্রহণ প্রক্রিয়াও আরো দ্রুত ও সহজ হবে বলে আশা করি।